বেশ কয়েকটি চমৎকার ও কার্যকরী উপায় মেনে কোয়ারেন্টাইনে নিজেকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়

সোনালি সূর্যের কোমল আলোর ছোঁয়া লেগে পৃথিবী নামক গ্রহের প্রায় সবার সকাল শুরু হতো।এইতো কিছুদিন আগে, সবাই ব্যাস্তদিনের কাজ সেরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ত পরদিন নতুন ভোরের শুরুর অপেক্ষায়। ছোট্ট মেয়ে মাকে জড়িয়ে আছে পরদিন নতুন রঙিন চুলের ফিতে বেঁধে স্কুলে যাবে বলে। ডিম থেকে ছোট্ট পাখি ফুটল কিনা তা দেখার ছটফট নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ছোট্ট ছেলেটি।এরকম ছোট ছোট গল্পগুলো সুতো বাধঁছিল একটু একটু করে। ব্যাস্ততম নগর থেকে শুরু করে নিবিড়, শান্ত গ্রাম পর্যন্ত যে যার মত করে বোনা স্বপ্নের পিছে ছুটে চলত….

 

রুপকথা..!!হ্যাঁ এখন এরকমই মনে হচ্ছে।

 

করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট Covid – 19

 

এর কারণে অনেকটা গল্পের মতোই শোনায় ঐ দিনগুলো।

 

চলমান কর্মব্যস্ততা থেমে গেছে এই সংক্রামক রোগের কারণে। ২০২০ সালের ১২ মার্চ (Who) এটিকে মহামারী ঘোষণা করে।চীনে প্রথম এই রোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর তা ব্যাপকহারে পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে।সারাবিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়।সংক্রামক রোগ হওয়ার ফলে এটি একজন থেকে অন্যজনে খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।তাই এটি রোধ করার জন্য সবাইকে বাসায় থাকতে বলা হয়।আর এটিই হলো কোয়ারেন্টাইন।নিজ এবং পরিবারের নিরাপদ থাকার জন্য বাসায় অবস্থান করছে।

 

এইসমযে একঘেয়েমি চলে আসে ফলে তৈরি হয় অবসাদ,বিষন্নতা যার থেকে পরবর্তী সৃস্টি হয় ডিপ্রেশন। তাই প্রথম থেকে সচেতন হয়ে নিজের মানসিক যত্ন নিলে এই সমযেও স্থিতিশীল থাকা যায়।তার জন্য মানতে হবে কিছু নিয়ম।নিয়মিত বই পড়া: বই পড়া এবং এর উপকারিতা নিশ্চয়ই কার অজানা নয় তবুও কিছু কথা না বললে নয়।আমরা সাধারণত শুনি বই পড়,বই পড়,অভ্যাস করে কিন্তু নতুনদের জন্য একটু কঠিন।যারা বইপোকা তাদের কথা আলাদা।কিন্তু যারা পরে না তাদের এটা আয়ত্ত করতে হবে। প্রতিদিন কয়েকপৃষ্ঠা নিয়মিত পড়তে পারলে আস্তে আস্তে আগ্রহ তৈরি হবে। সহজ সুন্দর গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ পড়া যায়।বিখ্যাত বই,নিজের ভালো লাগার বই, পছন্দমত পড়া যায়। প্রযোজনে রিভিউ দেখে নেয়া যেতে পারে।তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক পড়াটাও এগিয়ে রাখতে হবে। এরফলে শব্দ ভান্ডার বিস্তৃত হয়,বই পড়ার ফলে মানসিক স্থিরতা আসে,মনও ভালো থাকে। এসময়টাতে জমে থাকা,নতুন গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো পড়া যায়,এতে মানসিকভাবে স্থির থাকা যায়।

 

টুকটাক বাগান করা:মানসিকভাবে ভালো থাকার আরেকটি সুন্দর উপায় হলো বাগান করা।সেটা যেখানেই হোক না কেন যেমন : পড়ার টেবিল, ছাদ,উঠান,বারান্দা এসব জায়গায় সবজি,ফুল,ফল,গাছ লাগিযে নিয়মিত দেখভাল করলেও ভালো লাগবে সবার।

 

প্রার্থনা ও মেডিটেশন স্বঃ স্বঃ ধর্মের প্রার্থনা নিয়মিত করলেও মানসিক প্রসান্তি পাওয়া যায়।সকাল-বিকাল নিয়মিত হাঁটা,মেডিটেশন করা যায়।

 

শখের কাজ:নিজের পছন্দানুযায়ী কাজগুলো করা এবং দক্ষ হওয়ার এটাই সেরা সময়। ক্রাফট,ছবি আঁকা,লেখা,ছবি তোলা ইত্যাদি শেখা যায় এবং নিয়মিত চর্চা করা যায়।তাছাড়া রান্না,স্কিল ডেভেলপমেন্ট,নতুন কোনো ভাষা শেখা সহ আরো অনেক কিছুই করা যায়।

 

এই কাজগুলো করলে নিজের শখের কাজ করা হয় বলে মানসিক প্রশান্তি পাওযা যায় এতে মন ভালো থাকে। সর্বোপরি সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা যাবে এই মহামারীর সময় বন্দি গৃহে। ভালো ও সুস্থ থাকুক পৃথিবীর সবাই<3

Nurjahan Subber Tenni
School/College Student
GB110

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.