নিজেকে গড়ার এক সুবর্ণ সময় করোনা মহামারী

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনের উহানে উত্থিত হলেও ক্ষান্ত থাকেনি চীনকে ঘিরে বরং ক্রমান্বয়ে মরণঘাতি হয়ে ছড়িছে পড়েছে অন্যান্য অঞ্চল দেশসমুহে।

০৮ মার্চ ২০২০ (খ্রী.) তারিখে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে প্রথম করোনা রুগীর দেখা মেলে।

সাথে সাথে ভয় আতঙ্ক ছড়াতে থাকে দেশজুড়ে। দিনে দিনে করোনাও নিয়োন্ত্রণহীন হয়ে যাচ্ছিলো। তাই মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অফিস, আদালত, মিল, কারখানা সবকিছুতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানো বাদ পরেনা এই ছুটি থেকে। সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সবাই চলে যায় আপন গৃহে।

বাড়ীতে এসে প্রথম কিছুদিন বেশ আনন্দে কেটেছে। এরপরেই শুরু হয় হতাশা দুঃচিন্তা ভয়। চারদিক থেকে যখন মৃত্যুরা দল বেধে আসছিলো তখন ভালো থাকাটা মোটেও স্বাভাবিক ছিলোনা। টিভির পর্দায় মৃত্যুর খবর, পত্রিকার পাতায় প্রিয়জনের শোক, সোস্যাল মিডিয়ায় করোনা আক্রান্ত স্বামীর লাশ রেখে স্ত্রীর  পালিয়ে যাওয়ার করুণ দৃশ্য, মোটেও ভালো থাকতে দিলনা। প্রতিনিয়ত এসব দেখে দেখে আমিও যেন মৃত্যুর দিকে হেটে যাচ্ছিলাম। এই বুঝি করোনা আমাকে ছুয়ে দিল , পুলিশের ভ্যানটি আমার বাসার সামনে এসে আমাকে তুলে নিয়ে বাসাটা লকডাউন করে দিল, এসব চিন্তায় প্রায় অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম আমি। অতিরিক্ত সতর্কতা যেন আমার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়ে ছিল।

একদিন আম্মা বলল নিউজ দেখা বন্ধ করে দাও। এলাকার বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরাঘুরি কর। বেশি সময়

একা একা ঘরে থেক না। আম্মার আদেশ মেনে করোনাকে দেখেও না দেখার ভান করে স্বাভাবিক জীবন কাটানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু মোবাইল ল্যাপটপ রেখে , নিয়মিত বিশ্ব সম্পর্কে করোনা আপডেট না জেনে সময়গুলো কোনভাবেই যাচ্ছিলনা। তাই নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কলম খাতা নিয়ে নিজের দুর্বলতাগুলোকে তালিকাভুক্ত করলাম। বিশাল এক ফিরিস্তি হয়ে গেল। সেখান থেকে দুটি বিষয়কে আলাদা করলাম।

এক. কম্পিউটার 

দুই. ইংলিশ। 

মনেমনে ভাবলাম করোনাকালীন এই সময় আমার দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠার উপযুক্ত সময়। কম্পিউটারের বিশাল জগত থেকে এমএস ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল, গ্রাফিক্স ডিজাইন ওয়েব ডিজাইনকে বাছাই করলাম। আর ইংলিশ থেকে লিসেনিং স্পিকিং সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনলাইনে দুটি কোর্চে ভর্তি হয়ে যাই। অনলাইনে ক্লাস করা , দীর্ঘ সময় অনুশীন করা প্রতিদিন বাড়ীর কাজ সম্পূর্ণ করার মধ্যদিয়ে চারটি মাস কেটে গেল। আলহামদুলিল্লাহ সময়ের ব্যবধানে আমি এখন অনেক কিছু শিখেছি। করোনার এই অস্বাভাবিক সময়গুলো আমার কাছে এখন আশির্বাদ মনে হয়। এই চারমাস এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, করোনার ভয়াবহতা আমাকে ছুতেই পারলনা। এখন মনে হয় নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া এক সুবর্ণ সুযোগ এই করোনা মহামারী।

Obaydullah Ahmad Hossain
University Student
GBO56

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.