জীবনের তাগিদে পরিবর্তনশীলতা আর নতুনভাবে জীবন এর পথচলা

করােনাকালে আমরা সবাই হয়ে পড়েছি গৃহবন্দি। সারাটি দিন, সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাত ঘরের

মাঝেই চলাফেরা। বাইরে যাওয়া মানা খুব প্রয়ােজন ছাড়া। গেলেও মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস, একটু পর পর স্যানিটিজার বা সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করা। গরমে মাস্ক পরে ঘামে অসহ্য যন্ত্রণা, শ্বাস নেওয়াটাও যেন

কষ্টকর। বাসায় তার উপরে বেড়েছে কাজের চাপ। আবার কাজ শেষে শুয়ে, বসে দিন কাটান। কারও কাছে

যাওয়া যাচ্ছে না, কেউ আসতে পারছে না। এ যেন পশুর মত শুধু খেয়ে পরে বেঁচে থাকা যা মানুষের জন্য

সাজে না। তার উপর প্রতিদিন শত শত মানুষের আক্রান্ত হবার খবর, মারা যাওয়ার খবর একরকম জীবনকে যেন বিষিয়ে তুলছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও জীবন এর হাল ছাড়িনি। জীবনের প্রয়ােজনে যখন যেভাবে হােক বাঁচতে হবে। মানুষ মাত্রই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়, এ গুন তাকে দিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা। তাই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব এই ভেবেই ইতিবাচক মনােভাব ধরে রাখার কৌশল অবলম্বন

করেছি। করােনাকালে নিজের ঘরের কাজ গুলাে নিজেই করেছি, ঘর মােছা, কাপড় কাচা কিংবা আশেপাশের পরিবেশ সবই রেখেছি পরিস্কার। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবই যে আমাদের ভালাের জন্য এটাই এখন বাস্তব সত্য। স্বাভাবিক সময়ে ছুটির দিন গুলাে ছাড়া বাসায়

থাকার সুযােগ পাওয়া যেতনা, থাকত বাহিরের নানা কাজ। পরিবারকে সময় দেওয়া হতনা, গল্প করা হতনা।

কিন্তু এখন হাতে অনেক সময়। ঘরে বসেই বাহিরের অনেক কাজ করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। রান্না করার সময় পেতাম না, কিন্তু এখন বাসার সবার জন্য সকাল বিকালে হরেক রকম মজার রান্না শিখছি, করছি। নিজের পছন্দের কাজের দিকে আবার মনােযােগ দিতে শুরু করেছি। বারান্দার গাছ গুলাে অযত্নে পড়েছিল, সেগুলাে

আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কত শত বই ছিল পড়া হয়নি, সেগুলাে পড়েছি। বন্ধু আর আত্মীয়দের সাথে সােশ্যাল মিডিয়াতে যােগাযােগ আর ভিডিও কল করেছি। সময়ের অভাবে লিখালিখি যেন ভুলেই গিয়েছিলাম, এইতাে আবার লিখতে বসেছি। পড়াশুনার জন্য অনলাইন ক্লাস করছি। উপলব্ধি করতে শিখেছি জীবনের মর্মকথা। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়েছে, একসাথে খাওয়া, গল্প আড্ডা করা কিংবা নাটক সিনেমা দেখা, এগুলাে তাে আমরা ভুলতেই বসেছিলাম। বুঝতে পেরেছি জীবনে অর্থের প্রয়ােজনীয়তা সীমাবদ্ধ, কিন্তু জীবন ও তার সাথে জড়িত সম্পর্কগুলাে কত অমূল্য , সীমাহীন। একাকি জীবন কত বেদনা, নিষ্ঠুর। নিম্ন আয়ের মানুষ গুলাের কাজ না থাকায় কত অভাব অনটন। অর্থের কত অপচয় করেছি আমরা। এই করােনাকালে আমরা অর্থের অপচয় না করে অভাবী মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। কুসংস্কার আর গুজবে কান না দিয়ে সবার মাঝে হাসি আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই জীবনের সার্থকতা। নেতিবাচক মনােভাব নিয়ে শুধু মনমরা হয়ে পড়ে থাকলে আরও জীবন নিরানন্দ হয়ে যায়। করােনাকে আর অন্যসব রােগের মতই মােকাবিলা করতে হবে সাহসের সাথে। ভয় নয়, সাবধানতাই পারে সংক্রমণ আর মৃত্যু ঠেকাতে। আমাদের ইতিবাচক মনােভাবই পারে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে।

 

Sumona Akter
University Student
GB002

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.