কোয়ারেন্টাইন অভিশাপ নয় আশীর্বাদ

আমার নাম ইরাম তানভীর মাহতাব। আমি চট্টগ্রামের উত্তর চান্দগাওঁ এলাকায় আমি বসবাস করি। করোনার জন্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো আমিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। করোনাকালে আমরা সবাই কোয়ারেন্টাইনে আছি। যেহেতু করোনা খুবই ছোয়াছে রোগ তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে । আর করোনা থেকে বাচতেঁ বাসাই অর্থাৎ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেছে। এর এখনো কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় আমাদের এই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। তাই সরকার সকল স্কুল – কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাই আমার মতো অনেক শিক্ষার্থীকেই অনেক দিন যাবৎ বাসাই অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে পড়াশুনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি আমাদের মানসিক ভাবেও অনেক বিপর্যস্থ করেছে। আর তাই আমি কোয়ারেন্টাইনে নিজের মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছি।আমি প্রতিদিন বাসার ছাদে কিছুক্ষনের জন্য ব্যায়াম করেছি।যাতে আমার মন ও শরির দুটোই ভালো থাকে। এছাড়া বাসার অন্যান্যদের সাথে মিলে নানারকম বিনদনমূলক কাজ করেছি। যেমনঃ ঘরোয়া খেলাধুলা ইত্যাদি। সবসময় করোনার খোজ-খবর রেখেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ভুল খবরদেয়া হয়। তাই খোজ – খবর নেয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করেছি। সবসময় বন্ধু ও আত্মীয়- স্বজন এর সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের খোজখবর নিয়েছি | করোনার ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি বেশি নজর দিয়েছি। করোনার ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমরা পরিবারের সাথে অনেকটা সময় কাটাতে পেরেছি। যা স্বাভাবিক সময়ে করতে পারি নি। কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালিন সময়ে আমি অনেক বই পড়েছি। যেমনঃ গল্পের, উপ্যাসের ইত্যাদি। যেসব বই হাতের কাছে ছিল না সেসব বই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে পড়েছি। এছাড়া গনিত নিয়ে অনেক কাজ করেছি। যার ফলে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমরা যদি করোনার ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বেশিবাভী তবে আমাদের মনের বিষাদগ্রস্থ অবস্থা অনেকাংশে কমে যাবে। বিষেশজ্ঞরা তাই বলেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেন, “নিজেকে কতটুকু শান্তি দেব এটা পুরোটা নিজের ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি প্রতিদিনের বা প্রতি মুহূর্তের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবি, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়”। তাই আমি সবসময় করোনার ইতিবাচক দিকগুলো খুজে বেড়িয়েছি। সবসময় এই ভেবেছি যে একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আবার আমরা ফিরে যাবো কলেজে। কলেজ ফিরে পাবে তার চিরচেনা রূপ। ছাত্র – ছাত্রীদের কলরবে আবার মুখর হয়ে উঠবে শ্রেণিকক্ষ। গ্রাম কিংবা শহর আবার ফিরবে আগের ব্যস্ততায়। তার জন্য আমাদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। মেনে চলতে হবে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম। তাই আমি বলবো,” কোয়ারেন্টাইন অভিশাপ নয় আশীর্বাদ”। আমাদের সকলকেই এটি মানা উচিত । তাহলেই বর্তমান পৃথিবী রূপান্তরিত হবে আগের মুখরিত পৃথিবীতে।

Iram Tanvir Mahtab
University Student
GB099

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.