কোভিড-১৯ মহামারী ও ইতিবাচক মনোভাবের উদ্দীপনা

জীবন সময়ের সাথে বহমান নদীর মতো। কখনও উত্থান আবার পতন। খারাপ সময় প্রত্যেক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। তবে এই খারাপ সময় টিকে থাকার কৌশল আয়ত্ত করার মাঝেই মানুষের স্বার্থকতা। 

কোভিড-১৯ বা নোবেল করোনা ভাইরাস নামক অতি ক্ষুদ্র অনুজীব আমাদের জীবনকে করেছে স্থবির, থেমে গিয়েছে হাজার রকমের ব্যস্ততা। আতংকে জীবন অতিবাহিত করায় মনের মধ্যে একটু হলেও দুশ্চিন্তা কড়া নাড়ছে। নেতিবাচক মনোভাব নিজের অজান্তেই আমাদের ভীত করে তুলেছে। এর মাঝেই কিভাবে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখছি তাই আমার আলোচ্য বিষয়। 

আমি বিশ্ববিদ্যালয়্ব অধ্যয়নরত একজন ছাত্রী। আজ থেকে কিছু মাস আগেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, শ্রেণী কক্ষ ছিল সহপাঠী ও শিক্ষকদের আনাগোনায় মুখরিত, বিকেলে চায়ের আড্ডায় ছিল প্রাণ। কিন্তু এখন সেই দিন গুলো প্রায় স্মৃতি। 

তবুও আধুনিক যুগ ও বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে এখন অনেক এগিয়ে তার সুবাদে বন্ধুদের সাথে আছে অবিচ্ছিন্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথোপকথন, অনলাইন ভিত্তিক পড়াশোনার ব্যবস্থা সবার সঙ্গে সেই শ্রেণি কক্ষের মুহূর্ত মনে করিয়ে দেয় যা আমার মানসিক শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

পরিবার ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে সবচেয়ে বেশি ইন্ধন দিচ্ছে। মায়ের সাথে গল্প, বাড়ীর ছোটদের সাথে মজা করা, প্রয়োজনে তাদের পড়াশোনায় সাহায্য করার মধ্য দিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। ফলাফলে নেতিবাচক চিন্তা মনের মধ্যে বাসা বাধে না।

গল্পের বই কল্পনার রাজ্যে ডুব দিতে ভূমিকা রাখে। নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায় অনেকটা সময় জুড়ে। অনুপ্রেরণামূলক গল্পের বই পড়তে শুরু করলে তা জীবনে অনেক সম্ভাবনার কথা মনে করায়, তখন জীবনকে সহজ ভাবতে থাকি। ইতিবাচক চিন্তা এমনিতেই উকি দেয় মনের কোণে। 

“গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান” খুবই পরিচিত একটি উক্তি। ছোট থেকেই গাছের প্রতি অনেক মায়া। গাছের জীবন আছে সেই ভাবনা থেকেই গাছের সাথে গল্প করতাম। ধীরে ধীরে তাদের বড় হুয়া দেখে আনন্দিত হতাম। বর্তমানে ইট বালির বিরাট দালানের ভীড়ে গাছের জন্য জায়গার অভাব তাই ছাদের উপর গাছ লাগানো ও তাদের পরিচর্যা করা দিনের অন্যতম কাজ। এতে মন ভালো থাকে এবং নেতিবাচক ভাবনা দূর হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষীতে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতে হয়। তার সুবাদে গাছের যত্ন যেমন ভালো করে নেয়ার সুযোগ হচ্ছে তেমনি সুন্দর চিন্তা ভাবনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা সম্ভব হচ্ছে।

করোনা মহামারীতে অনেকের জীবন হয়েছে স্থবির। গরীব দুঃখী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকের মুখোমুখি হচ্ছে, অনেকের অভাবের প্রকোপ বাড়ছে। দৈনিন্দন চাহিদা মিটাতে হিমসিম খাচ্ছে। এই সময়ে আমরা পারিবারিকভাবে ও বন্ধুমহলের সঙ্গে মিলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যা তাদের মুখে কিঞ্চিৎ হলেও হাসি ফোটাচ্ছে। তাদের এই হাসি আমাকে অনুপ্রেরণা যোগায়। ভবিষ্যতে ভালো কাজ করার উদ্দেগের যোগান দেয় যা ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখায় সাহায্য করছে।

উল্লেখিত বিষয়গুলো ব্যতিত, বিনোদনের মাধ্যমসমূহ যেমন শিক্ষণীয় সিনেমা, এফ এম রেডিও, গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার অনুষ্ঠান, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভালো কাজের উদ্দ্যেগে সংশ্লিষ্ঠতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করছে কোভিড-১৯ মহামারীতে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে। সর্বোপরি, আমার নিজের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও ইবাদতে মনোনিবেশ করাও আমাকে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে ধৈর্‍্য্যের যোগান দিয়েছে ও দিচ্ছে।

 

সামিয়া হোসেন শ্রাবণী

University Category

GB063

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.