ইতিবাচক মনোভাবের ফলাফল ইতিবাচকই হয়

ইতিমধ্যে আমরা সকলেই কোভিড-১৯ সম্পর্কে অবগত এবং অনেকটা সময় এই মহামারির মধ্যে দিয়ে আমরা পার করেছি এবং এখনো করছি।সত্যি বলতে,এই মহামারির মধ্যে জিবন অতিবাহিত করাটা আসলে খুবই দূর্বিষহ।এর ভেতর থেকে ইতিবাচক মনোভাব রাখাটা যদিও একটা কঠিন কাজ,তবুও আমরা চাইলে আমাদের মনোবলকে শক্ত করার জন্য আমরা ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করতে পারি।বর্তমানে,এই মহামারির সময়ে আমি অনেক ভালো কিছু মুহুর্ত পেয়েছি যেটা আমাকে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে বাধ্য করেছে। ব্যক্তিগতভাবে, নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে আমি ভিষণ পছন্দ করি।কখনোই ভাবিনি এতো লম্বা একটা সময় জুড়ে পরিবারের সাথে থাকতে পারবো। মা-বাবা,ভাই-বোন, দাদা-দাদি তাদের সবার সাথে খুব আনন্দের সাথে দিন অতিবাহিত করতে পেরে সত্যি নিজের কাছে অনেকটা সুখ অনুভব করছি।

 

অবসরে,দাদ-দাদির কাছ থেকে পুরানো সেকালের গল্প শুনি এতে সেকাল সম্পর্কে আমার অনেকটা ধারণা তৈরি হয়েছে।সেকালের যাতায়াতের ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা আরো কত কি! শুনলে একদিকে গা শিউরে ওঠে আবার খুব ভালোও লাগে।আমি গ্রামে থাকি। দেখা গেছে, গ্রামের অনেক মানুষ কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতন না। আমি অনলাইনে কোভিড-১৯ সম্পর্কে একটি কোর্স সম্পন্ন করে অবশেষে গ্রামের সেইসব মানুষকে কেভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে সক্ষম হই।আরো কিছু বিষয়, যেগুলো আসলে এমন লম্বা একটা ছুটি না পেলে কখনোই উপভোগ করা হতো না।সেটা উপভোগ করতে পেরেছি শুধুমাত্র এই কোভিড-১৯ মহামারির ছুটির কারনে।পরিবারের মধ্যে কারো জন্মদিন বা অন্য কোন উৎসব থাকলে সবাই মিলে দিনগুলি স্পেশাল করতে কোনরকম কোন কিছুর কমতি রাখছি না।পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খুব আনন্দ করছি।আগে এভাবে সবার একসাথে থাকাটা সম্ভব হয়নি।এই মহামারি একদিন শেষ হয়ে যাবে, আর সবার এভাবে একসাথে থাকার দিনগুলি স্মৃতি হয়ে রবে।সবার একসাথে থাকাটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র করোনা মহামরির ছুটির কারনে।এইদিক গুলোও আমাকে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে বাধ্য করেছে।

 

একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়তে আমি খুব ভালবাসি।এই ছুটিতে ইতিমধ্যে আমি আমার পছন্দের অনেক লেখকের বই পড়েছি।অজানা বিষয় সম্পর্কে অনেকটা জানতে পেরেছি। গল্পের বই পড়ার এতো বেশি সময় পেয়েছি এই মহামারির ছুটির কারনে।কিভাবে সুন্দরভাবে দিন কেটে যাচ্ছে একদমই বুঝতে পারছি না।

 

একজন মেয়ে হিসেবে রান্না না পারার বিষয়টা কিছুটা বেমানানসই।আমার কাছে মজার ব্যাপার হলো, এই ছুটিতে আমি অনেক গুলো আইটেম রান্না করা শিখেছি।মায়ের মতো সুস্বাদু রান্না করতে না পারলেও মোটামুটি সবার মল প্রশংসা কুড়িয়েছি।নিজ হাতে রান্না করে পরিবারের সবাইকে পরিবেশন করার মধ্যে একটা অন্য রকম সুখের ব্যাপার জড়িয়ে থাকে। আর রান্না না পারা থেকে পারাটা আমার জন্য ছোটখাট হলেও একটা অর্জন।

 

সবশেষে, এই যে পরিবারের সবাই একসাথে থাকাটা, অবসরে সবার সাথে গল্প-গুজব- আনন্দ করা,গেমস খেলা

 

ছোট ভাই বোনের সাথে, বড়দের কাজে সাহায্য করা, গল্পের বই পড়া সত্যি দিনগুলো মনে রাখার মতো। করোনা

 

মহামারির এই লম্বা ছুটির কারনে, আমি পেয়েছি স্মৃতি করে রাখার মতো কিছু চমৎকার মুহূর্ত আর অনুভূতি যেগুলো আমার স্মৃতির খাতায় অমর হয়ে বাঁচবে।

#Think_Positive.

#Live_Positive.

Farzana Haque
University Student
GB121

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.