আমি যেভাবে কোয়ারেন্টাইন এর মাঝে নিজেকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখছি

পৃথিবী এখন কিছুটা প্রাণহীন কিংবা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে তার গতি, নভেল করোনা বা কোভিড-১৯ নামক একটি ভাইরাসের কবলে।বিশ্বসাস্থ্য সংস্থা বেশ কয়েক মাস আগেই একে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুনেছি শতবর্ষে একবার এরূপ মহামারি দেখা দেয়।সব প্রজন্মকে অবশ্য আবার এমন মূহুর্ত পারি দিতে হয় না। তাই প্রজন্ম পরম্পরায় আমরা বোধহয় খুব সৌভাগ্য বয়ে আনি নি। প্রথম প্রথম লকডাউনে গৃহবন্দি দিনগুলিতে নিজেকে খুব বন্দি ও অসহ্য অবস্থায় আবিস্কার করেন নি এমন মানুষ নেই বললেই চলে।বিশেষ করে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা,খবরের কাগজ টিভির হেডলাইন সব জায়গায় কেবলই করোনা করোনা এবং করোনা।তবে আমরা মানবজাতি আমরা সব পারি।তাই শিক্ষার্থী হিসেবে বাসায় থেকেও নিজের সময়কে কীভাবে সুন্দর ভাবে ব্যয় করা যায়, তা নিয়ে একটি কার্যবিবরনী তৈরি করেছি এবং চেষ্টা করছি তা ধরে রাখতে।

 

আমি দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।করোনাকালে কলেজ বন্ধ ,টিউশন বন্ধ।কর্মহীন অজস্র অবসর।তাই চেষ্টা করেছি নতুন কিছু জানতে এবং শিখতে।পাশাপাশি লেখা পড়ার যেন বিশেষ কোনো ক্ষতি না হয়,সেদিকে নজর রাখছি।শিক্ষকদের সহায়তায় অনলাইনে প্রতিনিয়ত পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

যেহেতু বর্তমান এই নিউ নরমালে সবকিছুই অনলাইন ভিত্তিক,তাই করোনাকালে নিয়মিত নিজেকে অপডেট রাখার জন্য টেকনিক্যাল দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বিষয়জ শিখছি।

 

করোনার সব থেকে বড় শিক্ষা বোধহয় নিজেকে ভালোবাসা,নিজেকে সুরক্ষিত রাখা,নিজের যত্ন নেয়া।তাই নিজের যত্ন নিচ্ছি। দিনে বেশ কয়েকবার হাত ,মুখ পরিস্কার করছি।যেহেতু আমরা কেউ ই সংক্রামক ঝুকি মুক্ত নই তাই পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করছি।পাশাপাশি নিয়মিত শারিরীক ব্যয়াম করছি।পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও সতর্ক করছি।

 

বিস্তীর্ন এই অবসরে নতুন অনেক কিছু জানার ও শেখার রয়েছে অবাধ সুযোগ।তাই বিভিন্ন বই পড়ছি । অনলাইনে লেখালেখি,ফিচার রাইটিং ইত্যদি বিষয় নিয়ে বেশকিছু কোর্স করেছি।খানিকটা অবাকও হয়েছি। বাসায় বসে দেশের বরেণ্য সব মানুষের কাছ থেকে ভিডিও কলে এভাবে শেখা যায়,যা সত্যিই অসাধারন।

 

এছাড়া অনলাইনে এখন আয়োজিত হচ্ছে নানা প্রতিযোগিতা। আমি নিজেও বেশকিছু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি।এবং বন্ধুসভা আয়োজিত গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছি।

 

করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্যোশাল মিডিয়া ঝোক অনেক বেশি।তাই মানুষকে বর্তমান এই মহামারিতে সতর্ক করার জন্য এই মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা অনেক।অনলাইন ভিত্তিক ভলান্টিয়ারিং সুযোগ সুবিধাও অনেক।বর্তমানে আমি ব্রাক এর আওতাধীন “আমরা নতুন নেটওয়ার্ক” এ ইয়ং রেসপন্ডার হিসেবে কাজ করছি।

 

করোনাপূর্ব পরিস্থিতিতে আমার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এখন যেহেতু বাসায়ই থাকি সারাদিন, অবসরে সাধ্যমতো মাকে বাসার বিভিন্ন কাজেও সাহায্য করছি।

 

সবমিলিয়ে চলমান এই নেতিবাচক সময়টিকে ইতিবাচকভাবে ব্যয় করবার চেষ্টাই করছি।এবং এসবের মধ্যে দিয়ে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সর্বোপরি আমার সমাজের জন্য যা মঙ্গলজনক তাইই করছি।এভাবেই আমি নিজেকে মানসিকভাবে স্থিতীশিল রাখছি আমার তো মনে হয়,করোনার মতে একটি বিষয় আমাদের বিভিন্ন নতুন নতুন ভালো এবং মন্দ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা করোনাপর্তীতে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা হয়ে বেচে থাকবে।

 

Sumaia Islam
School & College Student
GB078

 

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.