“আমি যেভাবে কোভিড-১৯ মহামারির মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছি”

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে চীনের উহান প্রদেশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে মরনঘাতী সংক্রামিত করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯)।যা ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলে সমগ্র পৃথিবীকে।২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রবেশের সংবাদ প্রকাশিত হলে সমগ্র দেশ লকডাউনের আওতায় এনে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বন্ধ করে দেওয়া হয় সকল স্কুল,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো।জরুরি অবস্থা জারি করা হয় সমগ্র দেশে যার ফলে ঘর বন্দী হয়ে পড়ে মানুষ।স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন।

এমতাবস্থায়,মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিরাজ করছে তেমনি অধিকাংশ মানুষই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।এই

সংকটময় সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সবলভাবে বজায় রাখার জন্য এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার মাধ্যম হিসেবে আমি কিছু কাজকে বেছে নিয়েছি।তা হলো:

পরিবারের সাথে সময় কাটানোঃপরিবার হলো মানুষের জীবনের অন্যতম এবং প্রধান আশ্রয়। করোনা ভাইরাসের এই সংকটকালীন 

মুহূর্ত আমাদের সবাইকে নিজেদের পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য বাধ্য করে তুলেছে।আমি আমার মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে আনন্দঘন পরিবেশে হাঁসি-ঠাট্টা করে,লুডু,দাবা,ক্যারমের মত গেমসগুলো খেলে আমার মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখছি।এতে করে আমি আমার ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পারছি।

শরীরচর্চা করাঃ করোনা কালীন এই সংকটময় সময়ে খুব জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে।একঘেয়ে ভাবে 

র বন্দী হয়ে থাকার ফলে শরীর অনেক বেশি স্থুল হয়ে উঠেছে ফলে মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছে সর্বত্র।এই পরিস্থিতিতে শরীর সঞ্চালনের জন্য আমি নিয়মিত ব্যায়াম করার পথ বেছে নিয়েছি।ফলশ্রুতিতে,শারীরিক ও মানসিক অবসাদ সহজে গ্রাস করতে পারছে না।

                             বাংলায় একটি প্রবাদ আছে,

                                “সুস্থ দেহ,সুন্দর মন”

তাই এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত শরীরচর্চা করে আমি শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক ভাবে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখছি।

গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করাঃপরিবারের সকল সদস্যদের মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার জন্য একে অপরের কাজে সাহায্য করা অত্যন্ত জরুরি।পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে কাজে সাহায্য করলে সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব বজায় থাকে যা মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার অন্যতম মূখ্য 

 

উপায়।তাই আমি পরিবারের সদস্যদের কাজে সাহায্য করার মাধমে আমার ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখছি।

বন্ধুবান্ধব এবং অন্যান্যদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং করাঃ এই করোনাকালীন দূর্যোগপূর্ণ সময়ে ঘরের বাইরে গিয়ে প্রিয়জনদের

সাথে আড্ডা দেওয়া,ঘোরাঘুরি করা,গল্প করা সম্ভব নয়।এক্ষত্রে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সকলের সাথে যোগাযোগ করে,আড্ডা দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখছি।এবং এটা আমাকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করছে।

লেখালেখি করাঃ যেহেতু করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) এর জন্য আমরা কম বেশি সবাই মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।এই

 পরিস্থিতিতে আমি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার জন্য ২টি ছোট গল্প,১টি গান,৫টি কবিতা,১টি প্রবন্ধ,৫টি বুক রিভিউ লিখেছি।একইভাবে আমি বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি যা আমাকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে অন্যতমভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বই পড়াঃ 

                              ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে,

                           “A reading is always pleasure”

বই মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।তাই কোভিড-১৯ এর এই সংকটকালীন সময়ে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার জন্য আমি ২০টির ও বেশি বই পড়েছি 

যার মধ্যে অন্যতম হলো-The Alchemist,Rich Dad Poor Dad,The Subtle Art Of Not Giving A Fuck,বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনীষীর জীবনী,গৃহদাহ,নন্দিত নরকে,গৌরীপুর জংশন,মিসির আলী,মৃত্যুক্ষুধা,গীতাঞ্জলী,কুহেলিকা,বাঁধনহারা। এই বইগুলো আমাকে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।

মুভি দেখা ও গান শোনাঃ করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) মানুষের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য অবসর বয়ে এনেছে।আর অবসর সময়ে মুভি দেখতে,গান শুনতে কে না ভালবাসে।মুভি দেখলে,পছন্দের গান শুনলে মানুষের মানসিকতা অনেক বেশি সতেজ এবং ইতিবাচক থাকে তাই আমি আমার ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার জন্য অনেকগুলো মুভি দেখেছি যেমন-Ratsassan,The Shawshank of Redemption,Predestination,A train to Busan,আগুনের পরশমনি,শ্রাবণ মেঘের দিন,কৃষ্ণপক্ষ,নদীর নাম মধুমতী,নৌকাডুবি।

এই মুভিগুলো আমাকে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে এবং অবসর সময়কে উপভোগ করতে অনেক বেশি সাহায্য করেছে।

বাগান করাঃসাধারণত নানামুখী ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাগান করা হয়ে ওঠেনি।করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে

 বাগান করে অবসর সময়কে কাজে লাগানো এবং ইতিবাচক সতেজ মনোভাব বজায় রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ পেয়েছি।১ কাঠা জায়গার উপর লাগিয়েছি গোলাপ ফুল গাছ,বনফুল গাছ,গাঁধা ফুল গাছ সহ আরো অনেক প্রজাতির গাছ।পড়ন্ত বিকেলে গোধূলি বেলায় বাগানে কাজ করলে তা মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনে।যা আমাকে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে এবং মন সতেজ রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করছে।

করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯)পৃথিবীকে আতঙ্কগ্রস্থ করে অনিশ্চয়তা,সংকটের মাঝে ফেলে দিয়ে চারিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলেছ।যতদিন না আমাদের আলোর দিশা মেলে আমদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা জরুরি।বিশেষ করে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য যাতে সতেজ ও সবলভাবে বজায় থাকে তার জন্য আমাদের নিজেদেরকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে আর অপেক্ষা করতে হবে কবে পৃথিবী আবার সুস্থ হয়ে উঠবে।তাই নয় কি!

 

Raju Ahmed Fakir

University Category

GB016

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.