আমি যেভাবে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছি

বর্তমানে বহুল আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে করোনা ভাইরাস (Covid-19)। করনা ভাইরাসের সংক্রমণ এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মানুষ আজ ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। করোনার প্রকোপে দেশে সকল প্রকার অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, স্পোর্টস ইভেন্ট, কন্সার্ট, টুরিস্ট স্পট সব বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই সক্ল পদক্ষেপ নেওয়ার একটাই কারণ তা হচ্ছে আমাদের নিরাপত্তা। ২০২০ এ এসে কোয়ারেন্টাইন শব্দটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কোয়ারেন্টাইন শব্দটি কানে এলেই মস্তিষ্কে করোনা ভাইরাসের ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই মোটামুটি লম্বা একটা সময়ের জন্য নিজেদের বাসায় থাকছি। আমরা কেউ এরকম অবস্থার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তাই হঠাত করে অনেকটা বাধ্য হয়ে বাসায় থাকাটা অনেকের ক্ষেত্রেই কিছু সমস্যার সৃষ্টি করেছে। যেমন বিরক্ত লাগা, মন খারাপ লাগা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া ইত্যাদি। এসব সমস্যা এড়াতে একটি সমাধান হতে পারে নিজেকে গঠনমূলক কাজে ব্যাস্ত রাখা। আমি মনে করি লেখালেখি হতে পারে সময় পার করার অন্যতম সেরা উপায়। সত্য কথা বলতে এসব লেখালেখির কোনো অভ্যাস ছিলনা আমার। তাতে সমস্যা কী! চেষ্টা করার সময় তো এখনি। নিজে পছন্দের যেকোনো বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা যেতে পারে। করোনা মহামারীর কারণে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেকদিন ধরে বন্ধ। এমন অবস্থায় আমাদের বন্ধুবান্ধবদের কথা মনে পড়া স্বাভাবিক। ক্যাম্পাসের সেই চায়ের দোকানের আড্ডা, ক্লাসরুমের হৈচৈ আজ যেন থমকে গিয়েছে। সারাদিন বাসায় বসে একঘেয়েমি লাগা তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই একঘেয়েমিতা কাটাতে বন্ধুদের সাথে ফোনে কথা বলা, অনলাইনে যোগাযোগ করা একটি ভালো উপায় নয় কি। অবশ্য মন খারাপ দূর করতে বন্ধুদের দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া অবসর সময় কাটাতে আমি কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি। কেমন হবে তা ভেবে এর আগে কখনও চেষ্টা করা হয়ে ওঠেনি। এখন যেহেতু সময় পেয়েছি চেষ্টা করেই দেখা যাক। সময় কাটানোর আরেকটি চমৎকার উপায় হলো বই। একটা ভালো বইয়ের সাথে এক কাপ কফিই যথেষ্ট মন ভালো করার জন্য। এই কোয়ারেন্টাইনে থেকে আমার যে কাজটি করে সব থেকে বেশি সময় পার হয়েছে তা হলো পেইন্টিং। বিভিন্ন অনলাইন আর্ট প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেছি এবং সবার কাছ থেকে অনেল উৎসাহ পেয়েছি। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের ব্যাস্ত জীবন যেন আমাদের নিজেদের দিকে তাকানোর সময়ই দেয়না। এখন যেহেতু হাতে বেশ সময় পাওয়া যাচ্ছে ফাই ঘাটতি পূরণ করে নেবার এটা একটা ভালো সুযোগ। এছাড়া শারীরিক ব্যায়াম মনকে ফুড়ফুড়ে রাখতে সাহায্য করে। মনে রাখতে হবে আমরা আমাদের মনোভাবের  নিয়ন্ত্রক তাই সবসময় ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে ভালো থাকতে হলে।এছাড়া আমাদের সকলের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং নিয়মকানুন মেনে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।

Sunjana Tasnim

University Category

GB013

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.