আমি যেভাবে কোভিড-১৯ মহামারীর মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখছি-

নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড -১৯ যেন পৃথিবীতে একটা অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছে।করোনা ভাইরাস যখন চায়নাসহ বিভিন্নদেশে ছড়িয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল তখন যেমন আতংকিত হয়েছিলাম তেমনি একটু খুশিও হয়েছিলাম। কারন, দীর্ঘ তিনমাস পর কিছু দিন ছুটি পেয়েছি ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় যাব।প্রথম কিছুদিন আনন্দে কাটলেও পৃথিবী ব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আহাজারি আর মৃত্যুর মিছিল দেখতে দেখতে হতাশায় ভুগতেছিলাম।এত লম্বা ছুটি হয়তো কখনো পাইনি কিন্তু যতই দিন যায় ততই মনের অবস্থা খারাপ হতে থাকে আর আর মনে বাসা বাধে এক অজানা ভয়।এই দীর্ঘ কর্মবিরতী আমার মদ্ধ্যবিত্ত পরিবারের উপর খুব প্রভাব ফেলেছিল।ক্যাম্পাসে সকাল থেকে ক্লাস,বিকালে বন্ধুদের সাথে আড্ডা,সন্ধ্যায় টিউশনি করিয়ে রাতে হলে ফেরা আমি এই সংকটকালে মনোবল হারিয়ে একদম শূন্যতায় হারিয়ে গিয়েছিলাম।কিন্তু বার বার নিজের মনকে বুঝিয়েছি এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না।আমাকে আগের মত কর্মব্যস্ত করে তুলতে হবে যেভাবেই হোক।একদিন সকালে বাড়ির উঠানে হাটতে হাটতে দেখলাম আমার মামা তার সবজি বাগানে পানি দিচ্ছে।আমি তাকে দেখে একটা অনুপ্রেরনা পেলাম এবং ভাবলাম ৪০ বছর বয়সী মামা একা যদি এত বড় সবজি বাগান করতে পারে তাহলে আমিও পারব।যেমন ভাবনা তেমন কাজ,তারপর দিন সকাল থেকেই আমি বাড়ির পিছনে ফেলে রাখা জমি পরিষ্কার করতে শুরু করলাম।তারপর আস্তে আস্তে মাটি খুড়ে জৈব সার দিয়ে বীজতলা তৈরি করলাম।সকালে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা করে কাজ করতে লাগলাম আমার প্রথম সবজি ক্ষেতে।আমি খেয়াল করলাম আমার ভিতরে একটা পরিবর্তন এসেছে,আমি আস্তে আস্তে আমার সেই ফেলে আসা পুরানো আত্নবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছি।আমি সবজি বাগানে লাল শাক,বরবটি,লাউ, কুমড়া,পেপে এবং শশা গাছের বীজ বপণ করলাম।প্রতিদিন পানি দিতাম আর মাটি চিরে বীজ ফুটে বের হওয়া সবুজ চারা গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবতাম জীবন অনেক বৈচিত্র্যময়, কঠিন। প্রতিদিন একটু একটু করতে বাড়তে থাকা চারা গুলো আমাকে একটা অন্যরকম ইতিবাচক মনোভাব আর আত্নবিশ্বাস যুগিয়েছিল। আমি নিজেকে যতটা পারি ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করলাম।চিন্তা করলাম ছোটবেলার শখ টাকে আবার শুরু করব।সেই লক্ষ্যে আমি ২ টা মাছ ধরার হুক(ছিপবড়শী) বানালাম। সকালে সবজি ক্ষেতে কাজ করি তারপর পুকুরে পাড়ে বসে মাছ ধরা শুরু করি।বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা,আমার ছিপে যখন একটা করে মাছ উঠতো আমি ভিতর থেকে এতটাই খুশি আর হাস্যজ্জ্বল হতাম যে,মনে হত আমি যেন আমার সেই ফেলে আসা শৈশব ফিরে পেয়েছি  ।এভাবে সকাল টা কাটতো বেশ।বিকালে আমি আমার ছোট ভাইদের সাথে বাড়ির উঠানে ক্রিকেট খেলি।ক্রিকেট খেলা এতটাই জমে উঠতো যে মনে হত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে।চার ভাই মিলে খুব মজা করে বিকাল টা কাটাতাম।সন্ধ্যায় ছোট ভাইকে পড়াতাম আর আমি মোবাইল বিডিন্ন গল্প ও উপন্যাস পড়তাম।মাঝে মাঝে পরিবারের সবাই মিলে বেশ মজা করে মুড়ি মাখিয়ে খেতাম।এভাবে আমার দিনগুলো বেশ কেটেছে এবং সাথে সাথে আমি ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পেরেছি ।সামাজিক গনমাধ্যমে মানুষের সৃজনধর্মী কাজ দেখে মাস খানেক আগে আমিও একটা ছোট অনলাইন বিজনেস শুরু করেছি।এই বিজনেসের মাধ্যমে অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে এবং অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

নোভেল করোনা ভাইরাস আমাদের জীবনে একটা বিধ্বংসী ছাপ রেখে যাচ্ছে। আমি এই কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে নিজেকে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রেখে ইতিবাচক মনোভাব এবং মানুষিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়েছি।

Md. Mohibullah AL Maruf

University Category

GB093

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.