আমি যেভাবে কোভিড-১৯ মহামারীর মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছি

কোভিড-১৯ বর্তমানের এক ভয়ানক ও বিরক্তিকর একটি নাম। ভাইরাসটির বয়স হতে চলল প্রায় ১ বছর আর আমাদের ঘরবন্দী করে রেখেছে প্রায় ৭ মাস ধরে। আমরা সবাই জেলখানার জীবনযাপন করছি। আর সেটা এক অদৃশ্যমান ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য। যেটা কেউ মানতেই চাচ্ছেন।

আমাদের সবার জীবনই আলাদা। কর্ম, দক্ষতা থেকে শুরু করে রুটিন, জীবনযাত্রা সবটাই অন্য সুতায় বোনা। আমি নিজে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আর সেই অনুভব থেকেই লিখছি আজকের এই বিশেষ ব্লগটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে ১৮ই মার্চ আর ১৭ই মার্চ জাতির পিতার ১০০তম জন্মবার্ষিকীতে জানতে পারলাম করোনা ভাইরাসের জন্য আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভার্সিটি বন্ধ। শুরুর তিনটা মাস ফাইনালকে সামনে রেখে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। যেমন ধরুন- ক্লাস টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশনস, এক্সট্রা ক্লাস, গ্রুপস্টাডি ইত্যাদি। বুঝতই পারছেন হঠাৎ সব দৌড় ঝাপ বন্ধ হয়ে এক বন্দীজীবন শুরু। এভাবেই দিন চলতে লাগল। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের একটা স্বপ্ন থাকে মাতক সম্মান পাশ করে পরিবারের হালটা একুট ধরবো। আর এই অনির্দিষ্টকালের বন্ধে আমরা বুঝতে পারছিলাম আমরা স্বীকার হতে চলেছি সেশনজট নামক এক মাকড়সার জালে। আর একেক জনের একেক রকম কথা তো আছেই। যার জন্য আমরা এক প্রকার ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম।

আমিও বাকিদের থেকে অন্যরকম নই। তবে শুরু থেকেই আমার চিন্তাধারাটা ছিল কিছুটা অন্যরকম। আমি ভেবেছিলাম এত বড় বন্ধে কি করা যায়? নর্মালি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাকে প্রচুর হাটতে হয়। সকালে বের হই, সারাদিন ক্লাস, ট্রেনিং, সন্ধ্যায় টিউশন করিয়ে বাসায়বাসায় ফিরে, বিশ্রাম নিয়ে, পড়াশোনা করে ঘুমিয়ে পড়ি। হ্যাঁ, বলা চলে ক্যাম্পাস খোলা থাকলে এটাই আমার প্রতিদিনের রুটিন। যেখানে আমি আমার পরিবারকে সময়ই দিতে পারতাম না। তখনি আমি ভাবলাম এই বন্ধে যতটা পারি পরিবারকে সময় দিবো। নিজের অনেক ইচ্ছা আছে, প্যাশন আছে সেসবে নজর দিব। এবং গত ৭ মাস ধরে সেটাই করে চলেছি।

শুধ এই নয়, এই মহামারীতে নিজের মাঝে একটা ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছি। আমি ভেবেছিলাম আমাদের অবস্থা এখন একটা পড়ে  থাকা কাঁচের মতো । যদি অনেকদিন এক জায়গায় পড়ে রয় তবে জং পড়ে যাবে। আর যদি সেই কাঁচটাকে কাজে লাগিয়ে ফেলি তবে সেটা জং না ধরে বরং ধারালো হবে। তাই ঠিক করেছিলাম কাজ করবো নিজের উপর। নিজেকে কিভাবে আরো উন্নত করা যায় সেসব কাজ করব। যেহেতু  আমার লক্ষ্য হলো- আমি উচ্চশিক্ষা নিতে পৃথিবীর সেরা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো। তাই আমি নিজেকে প্রস্তুত করছি জিআরই, ও আই. ই. এল. টি. এসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর জন্য। প্রতিদিন প্র্যাকটিস করছি এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাথ আর ইংরেজি বইগুলো। এরই মধ্যে অনেকগুলো বই শেষ করেছি। এতে করে নিজের লক্ষ্যের ছোট ছোট সিঁড়িগুলো পাড় হয়ে যাচ্ছি।

বর্তমান শুধুমাত্র পড়াশোনাই সব নয়। তাই চেষ্টা করে চলেছি আইটি সাইড গুলোতে নিজের দক্ষতা প্রখর করার। তাই পাইথন, ডাটা সাইন্স, গ্রাফিক্স সহ আরো অন্যান্য অনেক কোর্স করেছি বিভিন্ন অনলাইন গ্লাটফর্মগুলোর মাধ্যমে।

আমি অনেকগুলো ক্লাবের সাথে কাজ করি। যার ফলে অনেকের সাথে কথা হয় যোগাযোগ বাড়ে। ইংরেজি স্পিকিং ভাল করার জন্য বিভিন্ন অ্যাপসের দ্বারা প্র্যাকটিস করে চলেছি। ইংরেজি বই, নোভেল পড়ে অনেক অজানা, রহস্যমূলকতথ্য জানতে পারছি, গান করছি, গিটার প্র্যাকটিস করছি, ছবি আঁকছি। এতে করে আমি নিজেকে যেমন ব্যস্ত রাখছি, তেমন করে আমার সময় কেটে যাচ্ছে, নিজেকে বিভিন্নভাবে দক্ষ ও উন্নত করতে পারছি। অন্যদের সাহায্য করে চলেছি। কিভাবে এই মহামারীতে সময়টাকে কাজে লাগানো যায়।পরিশেষে, বলবো, আমি আমার বাজে সময়টাকে সুন্দর সময়ে ট্রান্সফার করেছি একটা রুটিনে ফেলে। নিজের পরিকল্পনাটাকে বাস্তব করেছি, কাজে লাগিয়েছি। কারণ আমি জানি, এই কাজগুলো এখন যেমন আমাকে বাজে সময় থেকে উঠতে সাহায্য করছে, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতেও ভাল কিছু হবে। আজকের মতো এতুটকই৷ সবাই ভালো থাকবেন।

Madhabi Sarker

University Student

GB098

 

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.