আমার কোভিড-১১ এর কাটানো দিনগুলো

কোভিড-১৯ দীর্ঘ ছয় আমরা সবাই এই শব্দটার সাথে বেশ পরিচিত হয়ে গিয়েছি। শুরুতেই বলি এটি একটি মহামারী আর মহামারী হচ্ছে যা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে আক্রান্ত করে সেটি হতে পারে একটি গ্রাম, একটা উপজেলা বা জেলা। আর এই কোভিড-১৯ হচ্ছে বৈশ্বিক মহামারী অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী যার বিস্তৃতি ।

এবার আসা যাক বাংলাদেশে | এর শুরু বা প্রাদুর্ভাব ছড়াবার প্রায়। গত মার্চ মাদের ৮তারিখ প্রথম তিনজন ব্যক্তি এই মহামারী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয় এবং ঐমাসের ১৮ তারিখ প্রথম আক্রান্ত হয়ে দেশে একজন মারা যায়। শুরুটা তিন বা এক সংখ্যা নিয়ে শুরু হলেও, সেইটা ধীরে ধীরে বড় খেকে বড় সংখ্যায় রুপ নিতে শুরু করে। আর তখনই শুরু হয় আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জ কেমন! আসলে মার্চ মাসের ১৬ তারিখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির পর বাসায় চলে আদি এবং শুরু হয় লকডাউন নামক নতুন নিয়ম। যেখানে অনেক বাধ্য বাধকতা পেরিয়ে চলতে হয়। মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে শুরু হয় লকডাউন। প্রথম প্রথম ভালো একটা অনুভূতি কাজ করতে শুরু করলো বাসায় এসেছি, কিছুদিন বন্ধ পেয়ে পরিবারের কাছে থাকতে পারবো। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আমরা নতুন সংখ্যার সাথে পাল্লা দিচ্ছি, প্রতিনিয়ত নতুন আক্রান্ত বা মৃতের সংখ্যার রেকর্ড হচ্ছে। তখন সময়টা আমাদের জন্য সহজ ছিলো না। পরিবারের কাছে আছি কিন্তু নেই সেই স্বাধীনচেতা ভাবে বাইরে যাওয়া, মনের ভিতর এক অদৃশ্য ভীতি কখন কী হয়া বাসায় বন্ধ থেকে পরে নিজেকে ভিন্ন ভাবে আবিষ্কার করলাম। কখনো সচেতনতা মূলক ভিডিও তৈরি করে সবার মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া। বাসায় থেকে কিভাবে সময় কাটানো যায় তার টিপস দেওয়া। এই খারাপ সমযেও নিজেকে কিভাবে ব্যস্ত রাখা যায় এমন সব ব্যাপার। কখনো গল্পের বই পড়ে নিজের ভালোলাগা তৈরি করতাম আবার কখনো গান গেয়ে নিজের ভালোলাগা তৈরি করতাম। কখনো কবিতা আবৃতি করতাম আবার কখনো লেখালেখি করেও সময়টাকে যথাযথ ব্যবহার করতাম। নিয়মকরে আবার ফটোগ্রাফিতেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি। আসলে আমি চিন্তাটাকে বদলে দিয়েছি। কারণ আমার কাছে এই কোভিড-১৯ এর সময়ে যতটা সময় হাতে পেয়েছি এভাবে কখনো সময় হয়ে উঠেনি। ছেলে বেলায় খেলাধুলা করেই পার করেছি এর বাইরে এতোসবের জায়গা হয়নি। আমি এই দীর্ষ সময়টাকে ভিন্ন ভাবে কাজে লাগিয়েছি। আমি বলবো নতুন অনেক কিছু শিখেছি। নিজেকে একাকী ভাবে রাখিনি। বাসায় পরিবারের সাথে জানা অজানা অসংখ্য গল্প আদান-প্রদান করেছি। এমনকি ব্যাচেলর মানুষ বাইরে থাকার সুবাদে নতুন রান্না শেখায় এক/দুবার বাসায় একবেলা রান্নাটাও করেছি। হেসে খেলে সুন্দর ভাবে এই মহামারীর সময়টা কাটিযেছি এবং যা চলমান। ইন্টারনেটে নানা টিউটোরিয়াল দেখছি, নিজেকে কিছুটা সমৃদ্ধ করছি। বাসায় মাযের হাতের বাহারি রকমের খাবার খেয়েছি এবং সবার জন্য সময়টা যে কঠিন না হয় ভাই প্রিয় মানুষদের সাথেও সময় দিয়েছি।

এখন ইন্টারনেটে অনলাইন ভালো-মন্দ মিলিয়ে পার করছি দিনগুলো। আমি চেষ্টা করেছি খারাপ সময়টাতে ইতিবাচক ভাবে দেখতে।ভালো -মন্দ মিলিয়ে জীবন চলাচল, ভাই নিজেকে যতটা সম্ভব সুন্দর কিছু মুহূর্ত এই কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে দিয়েছি এবং অন্যদের জন্যও যেন ইতিবাচক হয় তেমন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছি। সবকিছু খারাপ সময়টাকেও নিজের মতো করে উপভোগ করেছি।

এইছিল আমার কোভিড-১৯ মহামারীর ইতিবাচক মনোভাবগুলো।

 

Kabbo Saha

University Category

GB097

LEAVE REPLY

Your email address will not be published.