মব (Mob) বা ক্রাউড (Crowd) এর অর্থ সাধারণত ভিড় বুঝালেও, নির্দিষ্ট পরিবেশে এই শব্দগুলো দ্বারা উত্তেজিত জনতার ভিড় বোঝায়, যেখানে উপস্থিত প্রায় সবার মধ্যে একটি সাধারণ (Common) চিন্তাভাবনা, পছন্দের বিষয় কিংবা বিশ্বাস থাকে। এটি যেমন গানের কন্সার্টের সময় দেখা যায়, তেমনি অন্যদিকে, সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা পূর্ণ কাজ করার ক্ষেত্রেও গঠিত হয়ে থাকে। যেমনঃ কাউকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেওয়া বা আশেপাশের দোকানপাট ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া। মব ভায়োলেন্সের প্রসঙ্গে মূলত এর নেতিবআচক প্রভাবটা বুঝাতে ‘ভীড়’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে।
“মব ভায়োলেন্সে (Mob violence)” বলতে বুঝায়, একদল উচ্ছৃঙ্খল জনগণ দ্বারা যেকোনো কাজ সম্পাদন করা। হতে পারে সেটা কাউকে মারধর করা কিংবা অন্য কোনো সম্পদ ধ্বংস করা। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দেশে সুষ্ঠু আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও জনগণ নিজের হাতে আইন তুলে নেয়। তাই, এটিকে “মব জাস্টিস”-ও বলা হয়ে থাকে। আর এই আইনকে অবমাননা করে যদি কাউকে বিচার-বহির্ভূত হত্যা করা হয়, তাহলে সেটি হবে “মব লিঞ্চিং” । মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে কাউকে হেনস্তা করা, মারধর বা হত্যা করা হলো মারাত্মক জঘন্য চর্চাসমূহ, যেগুলো দ্বারা দেশের আইন ভঙ্গের মতো অপরাধ প্রকাশ্যে ঘটে থাকে। তাহলে, মানুষ কেন এসবে জড়িত থাকে বা নিশ্চুপ থাকে, এ প্রশ্নটি রয়েই যায়। এক্ষেত্রে, দুই ধরণের মানসিকতা আমাদের বিবেচনা করতে হবে।
১। মব মেন্টালিটি (Mob Mentality) অর্থাৎ, উত্তাল জনতার মানসিকতা
২। বাইস্টেন্ডার ইফেক্ট ( Bystander Effect)
মব মেন্টালিটি (Mob Mentality) / ক্রাউড মেন্টালিটি (Crowd Mentality)
মানুষ অনেক সময় উত্তেজিত জনতার ভিড়ে এমন সব কাজ করে থাকে, যা হয়তো সে নিজে ব্যক্তিগতভাবে করার কথা চিন্তাও করে না। মবে উপস্থিত থেকে মানুষের এই ধরণের মানসিকতা পোষণ বা প্রকাশ করাকেই মূলত বলা হয় মব মেন্টালিটি। এক্ষেত্রে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় –
- ফ্রান্সের মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ লা ভোঁ এর মতে ভিড়ের মধ্যে থাকলে মানুষের মধ্যে অসভ্য হওয়ার একটি প্রবণতা কাজ করে। মানুষ হয়তো ব্যক্তিবিশেষে বেশ সভ্যতা বজায় রাখলেও, ভিড়ের মধ্যে তাদের অনেকেরই ভিতরে বর্বরতা কাজ করে। অর্থাৎ, তারা নিজের বিবেক দ্বারা পরিস্থিতি বিবেচনা না করে উল্টো নিজের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি (Natural Instinct) – কে অনুসরণ করে।
- তাদের অনেকেই সাধারণত গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে বিশৃঙ্খল কাজ করা থেকে বিরত থাকে। আবার, তাদের কেউ কেউ হয়তো অনিরাপদ পরিবেশ বা খারাপ অভিবাবকের তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছে, কিংবা অন্য কোনো কারণে মানুষের প্রতি তাদের ক্ষোভ কাজ করে। মব ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে যেহেতু ভিড় থাকে, তাই তাদের মধ্যে এমন ধারণা থাকতে পারে যে, এত বিশাল সংখ্যক মানুষের মাঝে তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যাবে না। যতো বেশি মানুষ, তত লুকিয়ে থাকা সহজ। অর্থাৎ, তারা তাদের ভয় ও নৈতিক দায়িত্বকে নির্দ্বিধায় অবহেলা করতে পারে। সাময়িক সময়ের জন্য স্থায়ী এই সাহসিকতা জেগে উঠার ফলে, তারা নিজেদেরকে নেতিবাচক কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। যেমনঃ একজন ব্যক্তি হয়তো কাউকে হত্যা করার মতো সাহস রাখে না। কিন্তু, গণপিটুনির সময় উত্তেজনা ও ক্ষোভের বশে ভিক্টিমকে মারতেও সে দ্বিধাবোধ করে না।
- অনেকে যৌক্তিক চিন্তাভাবনা করার চেয়ে অন্যদের অনুসরণ করা (Conformity) – কে প্রাধান্য দেওয়া। এক কথায় বললে, সমাজে “ফিট” হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে দেওয়া। হয় কাউকে মারতে বা কিছু ধংস করতে সরাসরি অংশ নেয়। অথবা, কেউ ভুক্তভোগীকে সাহায্য করতে আসলে তাকে বাধা দিয়ে থাকে।
- দেশের আইন ব্যবস্থার উপর ভরসা উঠে গেলেও মানুষ এইসব কাজে অনায়াসে লিপ্ত হয়। এক্ষেত্রে, অনেকাংশেই দায়ী থাকে দেশের দুর্বল আইনী শাসন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভাব। যেমনঃ কোনো ঘোর অপরাধীর বিনা শাস্তিতে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, অনেক মানুষই নিজে থেকেই তাকে মারার জন্য এগিয়ে যায়। এক্ষেত্রে, অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারলে তারা সন্তুষ্টি হয়। এসময়, সরাসরি গণপিটুনিতে অংশগ্রহণ করা মানুষের সংখ্যা বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক।
মানুষের মধ্যে এই ধরণের মব মেন্টালিটি কেনো উদিত হয়, সেটা বুঝতে আমরা তিনটি তত্ত্ব নিয়ে সংক্ষেপে জানতে পারি। সেগুলো হলোঃ Contagious Theory, Convergence Theory এবং Emergent Norm Theory।
- Contagious Theory: ভিড়ের মধ্যে অযৌক্তিক কাজগুলো সংক্রামক (Contagious) হয়ে উঠে। মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ লা ভোঁ এর মতে, কেউ ভিড়ের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করলে, একসময় সে মানসিক ভাবে হিপ্নোটাইজড হওয়ার সমতুল্য এক অবস্থায় পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে, মব ভায়োলেন্সে দলনায়কের ভুমিকায় যারা থাকে অর্থাৎ, যাদের নির্দেশনায় মূলত ভায়োলেন্স সংগঠিত ও পরিচালিত হয়, তাদেরকে দেখে অন্যরা উৎসাহিত হয় এবং তাদের প্রত্যেক কথায় সম্মতি পোষণ করে থাকে। এর ফলে, দলনায়করা পুরো জনতার ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ ও ম্যানিপুলেট করতে পারে।
- Convergence Theory: Contagious theory এর ঠিক উল্টো আরেকটি বিষয় কাজ করতে পারে। সেটি হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে একত্রিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। অনেকেই নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে, একত্রিত হয়ে মব ভায়োলেন্সের পথ বেছে নেয়। পাশাপাশি, অন্যদেরও এই কাজে উৎসাহিত করে।
- Emergent Norm Theory: এটি মূলত Contagious এবং Convergence theory এর মিশ্রিত রূপ। এই তত্ত্বমতে, ক্রাউড মেন্টালিটির পেছনে মূলত দায়ী থাকে প্রত্যেকর একই ধরণের মানসিকতা ও অনুভূতি পোষণ করা এবং মানুষের মাঝে নিজেকে গোপন রাখার সুযোগ। অর্থাৎ, বাস্তবে দুইটি তত্তেরই প্রভাব একই সময় দেখা যায়। যেমনঃ একদল মানুষ হয়তো বিশেষ উদ্দেশ্যেই একত্রিত হয়, কিন্তু আশেপাশে জড় হওয়া অন্য মানুষদের প্রভাবে ও নতুন কিছুর আশায় তাদের যেকোনো সময়ই উদ্দেশ্য পরিবর্তন হতে পারে এবং মব ভায়োলেন্সে লিপ্ত হতে পারে। যেমনঃ এক দল যুবক হয়তো কোনো দাবী নিয়ে রাস্তায় নামলো। তাদের দেখাদেখি আরো অনেকেই জড়ো হলো। একসময়, সেই ক্রাউডে নিজেদের মধ্যে বাকবিতন্ডা বা অন্য কোনো কারণেই কয়েকজনকে লক্ষ্য করে হেনস্তা করা শুরু করলো।
উল্লেখ্য যে, মব ভায়োলেন্সে অংশগ্রহণ করা মানুষদের দেখে মনে হতে পারে যে, তারা হয়তো মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অথবা দৈনন্দিন জীবনে অনৈতিক কাজের চর্চা করে থাকে। কিন্তু, ক্রাউড মেন্টালিটির ধারণা আমাদের কাছে স্পষ্ট করে তুলে যে, একটি মানুষ মব ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে যেমন নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে, একক ব্যক্তি হিসেবে তার চরিত্র হয়তো সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ, ভিড়ের মধ্যে থাকা একজন মানুষের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত অনেকাংশই নির্ভর করে তার চারদিকে উপস্থিত মানুষজনের কর্মকাণ্ড এবং তাদের মোট সংখ্যা।
ভিড়ের মধ্যে এইদল যেমন সক্রিয়ভাবে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে, ঠিক তেমনি এদের বাইরে আরেকটি দল থাকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাদের সংখ্যা আইন ভঙ্গকারীদের থেকে বেশি থাকে, এবং যারা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। এদের ক্ষেত্রে কাজ করে বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট।
বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট (Bystander Effect)
জরুরী অবস্থায় বা কারো বিপদে অন্য মানুষদের উপস্থিতি আমাদেরকে অনেক সময়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে নিরুৎসাহিত করে। এই প্রভাবটাই মূলত বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট নামে পরিচিত। মোব মেন্টালিটির ক্ষেত্রে মানুষকে যেমন সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়, এই প্রভাবের ক্ষেত্রে মানুষকে উল্টো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। অর্থাৎ, আমরা বুঝতে পারছি যে, কাজটি ঠিক হচ্ছে না বা আমাদের ভিক্টিমকে সাহায্য করা উচিত, কিন্তু অন্যদের দেখে শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা আর এগিয়ে যাবো না। বেশ কিছু কারণেই এই প্রভাব পড়তে পারে। যেমনঃ
~ “অন্যরা সাহায্য করছে না যেহেতু, আমি একা কেন যাবো” বা “তাকে সাহায্য করতে গিয়ে আমি নিজেই না বিপদে পড়ে যাই” এমন মনোভাব পোষণ করা।
~ আবার সাহায্য করাকে গুরুত্বপূর্ণ নাও মনে হতে পারে নিজের কাছে। অন্যরা কেউ না কেউ তো এগিয়ে তো যাবেই – এমনটা ভেবে দাঁড়িয়ে থাকা।
~আত্মবিশ্বাসের অভাব।
এক্ষেত্রে কেউ ভিক্টিমকে আঘাত বা হেনস্তা করে না, বরং সাহায্যই করতে চায়, কিন্তু নানা কারণেই এটা বাস্তবায়ন করে না। অথচ, একজন একজন করে মানুষ সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেলে বা গণপিটুনি থামানোর চেষ্টা করলে, পরিবেশে শান্তি নিশ্চিত করাটা অনেকটাই সহজ হয়ে পড়তো।
মব ভায়োলেন্সের সময় আমাদের করণীয়
একটি দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে, সমাজের মানুষ ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করাটা নিন্দনীয় অপরাধ। এসকল বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে মানুষ নিজের ব্যক্তিসত্তাকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। আবার, অনেক ক্ষেত্রে, ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যেকোনো ব্যক্তিই (ভিক্টিম না) বিপদে পড়তে পারে। যেমনঃ অনেকসময় ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। ভিড়ের মধ্যেই কোনো এক নিরপরাধ ব্যক্তি শিকার হতে পারে মানুষের অত্যাচারের। তাই, কাউকে হুট করে বিচার করে কিংবা নিছক সন্ধেহের বসে শাস্তি দেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখাই শ্রেয়। এরকম উত্তেজিত পরিস্থিতিতে সবাইকে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে।
~ আইন অনুযায়ী, কেউ অপরাধ করে থাকলে বা সে অপরাধ করেছে এমন সন্দেহ করা হলে, তাকে দোষী প্রমান না করা পর্যন্ত শাস্তি দেওয়ার নিয়ম নেই। আবার, অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সে জামিনও পেতে পারে।
~মব ভায়োলেন্সের ক্ষেত্রে এরকম বিচার করা হয় না। ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তোভুগী তার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি শাস্তি পেয়ে থাকে, এমন কি মৃত্যুর মুখোমুখিও হয়। যেমনঃ চুরি করার অপরাধে ভিক্টিমকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা। তাছাড়া, যেহেতু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আইন ভঙ্গের সমান, তাই বিশৃঙ্খলার সাথে সরাসরি জড়িত সকলের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
~মব ভায়োলেন্সে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার মধ্যে না আছে গর্ব, না আছে সম্মান। দিনশেষে, আইন ভঙ্গকারীদের মানুষ অপরাধীই ভাবে।
সুতরাং, এমন পরিস্থিতির শিকার হলে অবশ্যই নিজেকে আগে সংযত রাখতে হবে। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হবে যে, সামনের মানুষটি অপরাধী নাও হতে পারে। আর যদি হয়েই থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই পুলিশ দেখব। পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে যেন, ভিক্টিমকে অহেতুক গনপিটুনি না দেওয়া হয় বা আশেপাশের সম্পদ যেন ধ্বংস না করা হয়। পাশাপাশি, অন্যদেরও বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিতে হবে। বড়সড়ো ভিড়ের মধ্যে সবাই সরাসরি গনপিটুনিতে অংশগ্রহণ করে না, বরং বেশিরভাগ নীরব দর্শক হিসেবেই ভুমিকা পালন করে। এসময় নীরবতা পালন না করে বরং সবাই একত্রিত হয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করার চেষ্টা করলে, পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। দেশের আইন শৃঙ্খলা যদি শক্তিশালী না হয়ে থাকে, তাহলে সেটার জন্য আমরা প্রতিবাদ করতেই যায়। তবে, মনে রাখতে হবে, সব কিছুর উর্ধ্বে আমাদের মনুষ্যত্ব, সুতরাং অন্যকে শাস্তি দিতে গিয়ে যেন নিজেরা আবার পশুত্ব ধারণ না করে বসে থাকি।
References:
https://unmil.unmissions.org/stop-mob-violence
https://www.nation.com.pk/11-Feb-2023/countering-mob-violence
https://www.youtube.com/watch?v=NoII-P_8fpg
https://www.youtube.com/watch?v=lf2kQBWRN30
https://www.hopeschoolofleadership.org/uploads/8/6/4/7/8647749/sociology_section_6.pdf
সুস্মিতা মমতাজ রিম্পা
ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্স,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
